সূরা ফাতিহার বিস্ময়কর তাফসীর – নোমান আলী খান

উস্তাদ নোমান আলী খান যে টিপসটা দিলেন সেটা সম্ভবত আমার জীবনে পাওয়া মিলিয়ন ডলার টিপসের একটি!

উনি বললেন প্রতিদিন ৫-১০ মিনিট হলেও কুরআন পড়তে এবং প্রতিটা আয়াতকে একটা দুআতে কনভার্ট করতে।

উনি উদাহরণ দিলেন, ধরুন আমরা যদি সূরা বাক্বারা পড়া শুরু করি, যখন পড়ব-
“আলিফ লাম মীম”….দুআ করতে পারি যে আল্লাহ তুমি জানো, আমি জানি না। তোমার জ্ঞানের ভাণ্ডার থেকে যেটুকু আমার জন্য উপকারী তা আমাকে দাও (কারণ এটা মুতাশাব্বিহাত এর একটি, কুরআনের যে আয়াতগুলার অর্থ শুধু আল্লাহই জানেন)
“এই সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই”……আল্লাহ এই কিতাবের ব্যাপারে কখনও যেন সন্দেহ আমার হৃদয়ে প্রবেশ করতে না পারে!

“এটা মুত্তাক্বীদের জন্য পথ প্রদর্শক”…..আল্লাহ তুমি আমাকে মুত্তাক্বীদের অন্তর্ভুক্ত কর।
ঊনি যখন এগুলা বলছিলেন, আমার দুরন্ত মন তখন চিন্তা করছিল কুরআনের সব আয়াতকে কি দুআতে পরিণত করা সম্ভব? যখন কোনো একটা ঘটনা বর্ণিত হয়েছে? এমন আয়াত যদি পড়ি?

আমার মনের কথা টের পেয়েই ঊনি বুঝি বললেন যে মুসা আলাইহিস সালাম এর ঘটনাটা যদি আমি পড়তে থাকি, যেখানে ঊনি মিশরীয়কে এমন চড় দিয়েছিলেন যে বেচারা মারাই গিয়েছিল, তবে নিশ্চয়ই আমার দুআ এটা হবেনা যে আল্লাহ আমার থাপ্পড়ে কেউ যেন কখনও মারা না যায় বরং আমার দুআ হবেঃ

আল্লাহ আমি যেন কখনও কারো ব্যাপারে দ্রুত কোনো উপসংহারে না পৌঁছাই।
আল্লাহ আমি যেন কোনো ভুল করলে সাথে সাথে সেটা টের পাই ও তোমার কাছে ক্ষমা চাইতে পারি, যেমনটা মুসা আলাইহিস সালাম করেছিলেন।
আমি যেন সৎ উদ্দেশ্যেও কাউকে কখনও আহত না করি।

কী চমৎকার, তাই না? কুরআনের আয়াত থেকে দুআ ডিরাইভ করতেও কতটা প্রজ্ঞা লাগে সেটা উনি এই উদাহরণ না দিলে আমি বুঝতাম না কখনই।

[উস্তাদ নোমান আলী খানের মালেয়শিয়া সফরে ভলান্টিয়ার হবার অভিজ্ঞতা ও কিছু উপলব্ধি লিখেছেন – হামিদা মুবাশশিরা (Hamida Mubasshera)]

আলস্য বনাম পরকালীন বিশ্বাস।

এই দুনিয়ায় প্রেরণ করার বহু পূর্বে আমাদের রূহগুলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর একজন ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে একটি রূহ নিয়ে আমাদের মায়ের গর্ভে দিয়ে দেন। তারপর এই পৃথিবীতে আমাদের জন্ম হয়। এই পৃথিবীর পূর্বেই আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এখানে আসার আগেই আমাদেরকে আমাদের বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আর মৃত্যুর পর আমরা অন্য আরেকটি জীবনে (কবরের জীবন) পদার্পন করবো। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই জীবন চলবে। অনেক মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে কবরের জীবনে রয়েছেন। ঐটাও জীবনের আরেকটি অধ্যায়। আমরা এটাকে জীবনের সমাপ্তি হিসেবে দেখি না, আমরা এটাকে জীবনের ভ্রমণ পথের একটি থামার জায়গা হিসেবে দেখি।

সুতরাং আপনি যখন এভাবে জীবনের ভ্রমণ পথের সবগুলো থামার জায়গা নিয়ে চিন্তা করবেন, আপনি উপলব্দি করতে পারবেন যে, এই জীবন অর্থাৎ এই পৃথিবীতে আমার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কালটা আসলে এই ভ্রমণের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সময়কাল।

আর এই সংক্ষিপ্ত সময়কালটাই আমার সামনের অনন্ত জীবন কিভাবে কাটবে তা ঠিক করে দিবে। আমার অনন্ত জীবনের সুখ-দুঃখ দুনিয়ার এই সংক্ষিপ্ত জীবনের উপর নির্ভরশীল। তাই এই দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাজে লাগাতে হবে, উত্তম কাজে তা ব্যয় করতে হবে। ‘ফ্রি টাইম’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। পরকালীন জীবনের ধারণা আমাকে এই পৃথিবীর সময়কে সম্মান করতে শেখায়। আরো বেশি বেশি ভালো কাজ করতে আমাকে তাড়া দেয় এবং আমার ভেতরের খারাপ দিকগুলোকে দূর করার তাগাদা দেয়। এটা আমার ভেতরের অলসতাকে ধ্বংস করে দেয়।

আপনার যদি নিজেকে অলস মনে হয় তাহলে পরকালের প্রতি বিশ্বাসটা যথেষ্ট মজবুত কিনা চেক করে দেখুন। সম্ভবত,পরকাল বিষয়ে আপনার আরো জ্ঞানার্জন করা দরকার, বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার। কারণ পরকালীন বিশ্বাস আপনার ভেতরে ‘এ সেন্স অফ আর্জেন্সি’ তৈরী করার কথা।

আপনাদের মাঝে যারা মনে করছেন, পরকাল, বিচার দিবস, জান্নাত এগুলো অনেক দূরের বিষয়। আর আল্লাহ কী বলেন? আল্লাহ বলেন – إِنَّهُمْ يَرَوْنَهُ بَعِيدًا – وَنَرَاهُ قَرِيبًا – “তারা ঐ দিনটিকে সুদূর মনে করছে, কিন্তু আমি তা নিকটে দেখতে পাচ্ছি।”(৭০:৬-৭)

— উস্তাদ নোমান আলী খান

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.