সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে…।।

বঙ্গোপসাগরে মহাসমারোহে চলছে মাছ ধরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলেদের জালে ধরা পড়ছে কাঙ্খিত রুপালি ইলিশ। ফিশিং ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে কূলে ফিরছেন জেলেরা।

ইলিশের পাশাপাশি ধরা পড়ছে রূপচাঁদা, লইট্টাসহ নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। তবে এখনো দাম একটু বেশি। সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় ব্যবসায়ী ও জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। আড়তগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

বুধবার সকালে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ। টানা তিন মাস পর কোলাহল না থাকা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে। বৈরী আবহাওয়া ও ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গেলেও ইলিশের দেখা পাননি জেলেরা।

এতে অনেকটা হতাশা নিমজ্জিত ছিলেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত দুই দিনে পাল্টে গেছে এখানকার চিত্র। সাগর থেকে মণ মণ ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে শত শত ফিশিং ট্রলার। ঘাট থেকে ডিঙি নৌকায় ঝুড়ি নিয়ে মোকামে তোলা হচ্ছে ইলিশ।

ব্যবসায়ীদের হাঁকডাক ও বেচাকেনায় সরগরম হয়ে ওঠে ফিশারি ঘাট নামে পরিচিত এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখানে কারও যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। কেউ বরফ ভাঙছে, কেউবা ইলিশের সন্নিবেশ করতে ব্যস্ত। অনেক ব্যবসায়ী কাঙ্খিত দাম পেয়ে ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন ইলিশের চালান।

ফিশারি ঘাটে কথা হয় ফিশিং ট্রলারের জেলে রমিজসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বলেন, অনেক দিন মৎস্য শিকার বন্ধ থাকায় বেশ কষ্টে দিন গেছে। এর ওপর করোনার দুর্যোগও ছিল। সবমিলিয়ে অনেক দুঃখ-কষ্টে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে।
এবার সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় হয়তো সেই দুঃখ-কষ্ট ঘুচবে। কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানে আলম পুতু বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া ও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে হাজারো ফিশিং ট্রলার এক সপ্তাহ ধরে সাগরে মৎস্য আহরণে গেছে। প্রতিদিন প্রচুর ইলিশ নিয়ে ফিরছে ট্রলারগুলো।

নিষেধাজ্ঞাকালীন যে ক্ষতি হয়েছে আশা করি তা পুষিয়ে নিয়ে লাভের মুখ দেখবেন ব্যবসায়ী ও ফিশিং ট্রলার মালিকেরা।’ কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. এহসানুল হক বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ট্রলারগুলো ফিরতে শুরু করায় মাছের পরিমাণ ও রাজস্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, গত বছর জেলায় ইলিশ আহরণ হয়েছিল ১৫ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন। এবার ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার মেট্রিক টন।

২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। এ কারণে ইলিশের প্রজনন ও আকৃতি বেড়েছে অনেক গুণ। দুর্যোগকাল কাটিয়ে জেলেরা সাগরে নামছেন ইলিশ ধরতে। তিনি আশা করছেন, এবার ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবেন জেলেরা।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.