শোক দিবসে ফুল দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ।

শোক দিবসে নোয়াখালীর চাটখিলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লাঠির আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের ওপর এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শোক দিবস উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মীদের নিয়ে যান চাটখিল পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান লিটন ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন।

কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় মাইকে যুবলীগের আহ্বায়ক বেলায়েতের নাম ঘোষণা না করাকে কেন্দ্র করে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

এ সময় তারা একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুষ্পমাল্য, পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গিয়ে তারা মারামারির মধ্যে পড়েন। এ সময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ (৭২), বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম (৭০) ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পিংকু (৩৫) আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বলেন, ফুল দেয়ার জন্য আগে যাওয়াকে কেন্দ্র করে লিটন ভাইয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার সমর্থকদের মধ্যে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। এছাড়া আমাদের মধ্যে আর কোনো সমস্যা নেই। পুষ্পস্তবক কারা ভাঙচুর করেছে তা আমার জানা নেই।

চাটখিল পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান লিটনকে ফোন দিলে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি বলেই ফোন কেটে দেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাকের হোসেনও কথা বলতে রাজি হননি।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ মোসা বলেন, ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির কোনো সমস্যা হয়নি।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জাগো নিউজকে বলেন, দুগ্রুপের হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে। বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.