বিশ্ব রেকর্ড করেও যে কারনে ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কায় পরেছেন অ্যাজাজ প্যাটেল

ওয়াংখেড়েতে দিনকয়েক আগে তিনি যা করেছেন, মহাকীর্তি বললেও বোধহয় কম বলা হয়। টেস্টে এক ইনিংসে দশ উইকেট তাঁর আগে বিশ্ব ক্রিকেটে পেয়েছেন আজ পর্যন্ত মাত্র দু’জন। ইংল্যান্ডের জিম লেকার এবং ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে।

কিন্তু তার পরেও নিউজিল্যান্ডের বাঁ হাতি স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেল জানেন না, ওয়াংখেড়ে টেস্ট তাঁর ক্রিকেট জীবনকে চিরকালের মতো পালটে দিল কি না! নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৮০-৯০টা টেস্ট খেলার স্বপ্ন দেখেন অ্যাজাজ। তবে জানেন না, সেই স্বপ্ন আদৌ সত্যি হবে কি না।

“আমি সত্যিই জানি না, ভবিষ্যতে কী হবে? জানি না, আমার জীবন বদলে যাবে কি না। তাই বর্তমানেই থাকতে চাই আপাতত,” মুম্বই টেস্ট শেষে বলে দিয়েছেন অ্যাজাজ। “মানছি, আমি যা করেছি, বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে খুব বেশি তা ঘটেনি। কিন্তু এখানেই আমার জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আরও ক্রিকেট খেলতে হবে আমাকে। তাই, মাটিতে পা রেখে চলাটা আমার ক্ষেত্রে খুব জরুরি। এক টেস্টেই সব পালটে গেল, এমনটা ভাবলে চলবে না,” দ্রুত জুড়ে দেন তিনি।

অ্যাজাজের স্পিন যতই বিষাক্ত হোক, কথাবার্তায় তিনি অত্যন্ত নম্র, বিনয়ী, মিতভাষী। “জানেন, আমি স্বপ্ন দেখি নিউজিল্যান্ডের হয়ে আশি থেকে নব্বইটা টেস্ট খেলার। এখনও পর্যন্ত এগারোটা টেস্ট ম্যাচ খেলেছি আমি। আর হ্যাঁ, জন্মসূত্রে আমি ভারতীয়। তাই ভারতের প্রতি আমার টানও রয়েছে।

কিন্তু বিশ্বাস করুন, নিউজিল্যান্ডের হয়েই চিরকাল খেলে যেতে চাই। কারণ, আমি যতটুকু যা হয়েছি, পুরোটাই নিউজিল্যান্ডে এসে। নিউজিল্যান্ডে খেলেছি বলেই আজ আমি এই জায়গায় দাঁড়িয়ে। তাই কোনও কিছুর জন্যই নিউজিল্যান্ডকে বাদ দিতে পারব না আমি,” টানা বলতে থাকেন বিশ্বরেকর্ডধারী।

যিনি বিশ্বরেকর্ডের বল আবার উপহার হিসেবে দিয়ে গেলেন মহারাষ্ট্র ক্রিকেট সংস্থাকে। প্রস্তাবিত ক্রিকেট জাদুঘরের সংগ্রশালার জন্য। অ্যাজাজ আজীবন ব্ল্যাক ক্যাপসের হয়ে খেললেও তাঁর ইতিহাস গড়া বলটি চিরতরে হয়ে গেল তাঁরই জন্মভূমি মুম্বইয়ের।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.