বিশ্বকাপ জিততে ভারতকে নতুন টিপস দিলেন সুনীল গাভাস্কার

ভারত সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে ২০১১ সালে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতে অনুষ্ঠিত সেবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত শিরোপা জিতেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে।

এরপর কেটে গেছে একটি দশক, কিন্তু ভারত কোনো সংস্করণেই বিশ্বকাপ জেতেনি। তবে এরপর আইসিসির একটি টুর্নামেন্ট জিতেছে ভারত, ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। সেবারও ভারতেরে অধিনায়ক ছিলেন ধোনি।

আইসিসির আরেকটি ট্রফি, তথা আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফির জন্য ক্রিকেটপাগল দেশটিতে শুরু হয়ে গেছে হাপিত্যেশ। বিশেষ করে এ বছর হওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সুপার টুয়েলভ থেকে বাদ পড়ার পর যেন আরও বেশি হাপিত্যেশ করছেন ভারতের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ থেকে জাতীয় দলের সাবেক তারকারা।

খুব দ্রুতই অবশ্য সবার আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ পাচ্ছে ভারত। আগামী দুই বছরে দুটি বিশ্বকাপ পাচ্ছে তারা। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়াতে হবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর পরের বছর ভারতের মাটিতেই হওয়ার কথা ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

ভারতের সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা স্বপ্ন দেখছেন, দুটি বিশ্বকাপই জিতবে তাদের দল। যাদের স্বপ্ন এত উচ্চাভিলাষী নয়, তাদের চাওয়া অন্তত একটি বিশ্বকাপের ট্রফি যেন ভারতের হয়!

তবে ভারতের ক্রিকেটের বোদ্ধা মহলের প্রশ্ন—আসলেই কি তারা দুটি কিংবা অন্তত একটি বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য রাখে! ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য সুনীল গাভাস্কার যেমন মনে করেন, ভারতকে আগামী বছরের টি–টোয়েন্টি আর পরের বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ বাড়াতে হলে অবশ্যই কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে।

সেই উন্নতির জায়গাগুলো কী বা সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ জিততে একটি দলের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কী, সেটা গাভাস্কার বর্ণনা করেছেন মিড–ডে পত্রিকায় লেখা তাঁর কলামে।

রোহিত শর্মার দলকে পরামর্শ দিতে গিয়ে গাভাস্কার উদাহরণ হিসেবে টেনে এনেছেন ১৯৮৩ সালে তাঁদের বিশ্ব জয় করার প্রসঙ্গ, ‘আমাদের দলটি ছিল ১৪ সদস্যের। কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন একজন ম্যানেজার। তখন ফিল্ডিংয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ওভারে বাউন্সার কয়টা দেওয়া যাবে, এর কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া ছিল না। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বল অনেক বেশি সুইং করত।’

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ভারত কীভাবে বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গাভাস্কার লিখেছেন, ‘আমাদের দলটি অলরাউন্ডারে ভরা ছিল। (বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে) এটা মূল একটা বিষয় ছিল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অলরাউন্ডার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

এমনকি ২০০৭ (টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) ও ২০১১ সালেও (ওয়ানডে বিশ্বকাপ) দলে এমন অনেক ব্যাটসম্যান ছিল, যারা বোলিংও করতে পারত। একই সঙ্গে বোলার যারা ছিল, তারা ব্যাট হাতে এত সহজে হার মানত না।’

১৯৮৩, ২০০৭ ও ২০১১—তিনটি বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে গাভাস্কার রোহিতের দলক পরামর্শ দিয়েছেন এভাবে, ‘ভারত যদি দুজন অলরাউন্ডার খুঁজে বের করতে পারে, তাহলে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর ২০২৩ সালে দেশের মাটিতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয়ের ভালো সম্ভাবনা থাকবে।’

প্রসঙ্গটা যখন অলরাউন্ডারের, ভারত দলে এই মুহূর্তে খুব বেশি বিকল্প নেই। ভারতের এই দলের সবচেয়ে বড় অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।

শার্দুল ঠাকুর ধীরে ধীরে নিজেকে আদর্শ একজন অলরাউন্ডারের জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। তরুণ ভেঙ্কটেশ আইয়ার আইপিএলে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন, কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে এখনো তিনি পরীক্ষা দেননি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সামনের বছরগুলোয় যেহেতু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আইসিসির বেশ কয়েকটি ইভেন্ট আছে, ভারতকে সাফল্য পেতে হলে ভালো অলরাউন্ডার খুঁজে বের করতে হবে। অন্তত গাভাস্কারের মতো একজন ক্রিকেট বোদ্ধার পরামর্শ সেটাই বলে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.