ফাইনালের দৌরে আজ ছন্দে থাকা ভারতই এগিয়ে

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকি প্রতিযোগিতায় আজ, মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ভারত মুখোমুখি হবে জাপানের। মনপ্রীত সিংহের নেতৃত্বে দল এই প্রতিযোগিতায় ধীর গতিতে শুরু করলেও দ্রুতই ছন্দে ফিরেছে। তা ছাড়া গ্রুপের শেষ ম্যাচে এই জাপানকেই ৬-০ হারিয়েছিল ভারত। তাই সেমিফাইনালের আগে মনপ্রীতরা আত্মবিশ্বাসী ফাইনালে ওঠার ব্যাপারে।

তবে ভারতীয় দলকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে শেষ ম্যাচের ফলের প্রেক্ষিতে আত্মতুষ্টি ভর না করে শিবিরে। গ্রুপ পর্বে ভারত ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে রাউন্ড রবিন পর্ব শেষ করে। তার পরে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া (৬), পাকিস্তান (৫) জাপান (৫) এবং আয়োজক বাংলাদেশ (০)।

তবে প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ২-২ ড্র করেছিল ভারত। এই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও তার সুবিধা নিতে পারেনি ভারতীয় দল। দক্ষিণ কোরিয়া দারুণ ভাবে ফিরে এসেছিল ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য হরমনপ্রীত সিংহরা ৯-০ গোলে হারায় বাংলাদেশকে। এর পরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারায় ৩-১ গোলে।

সহ-অধিনায়ক হরমনপ্রীত এই প্রতিযোগিতায় আলাদা করে নজর কেড়েছেন। শুধু রক্ষণেই নয়, পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করার ক্ষেত্রেও তিনি ভারতীয় শিবিরের বড় ভরসা। রবিবার জাপানের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিনি পেনাল্টি কর্নার থেকেই দুটি গোল করেন।

ফলে শেষ চারের লড়াইয়েও একই দলের বিরুদ্ধে তিনি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি রক্ষণ বিভাগে দাপটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। জাপানের বিরুদ্ধে তিনি পাঁচটি পেনাল্টি কর্নার বাঁচাতে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছিলেন।

মিডফিল্ডে অধিনায়ক মনপ্রীত এবং হার্দিক সিংহ দারুণ ভাবে নিজেদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আক্রমণে দিলপ্রীত সিংহ, জর্মনপ্রীত সিংহ, আকাশদীপ সিংহ এবং শমসের সিংহ এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় দলকে জয় দেওয়ার দিক থেকে প্রধান ভূমিকা নিয়ে এসেছেন। তরুণ গোলকিপার সূরজ কারকেরাও দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। শে, ম্যাচেও জাপানের বিরুদ্ধে নিশ্চিত কয়েকটি গোল বাঁচিয়ে তিনি দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছিলেন।

লিগ ম্যাচে জাপানকে সব বিভাগেই বিধ্বস্ত করেছিল ভারতীয় দল। সেই একই ফল সেমিফাইনালেও করে দেখাতে মরিয়া আকাশদীপরা। তবে রক্ষণে ভারতীয় দলকে আরও একটু সতর্ক থাকতে হবে। যাতে বিপক্ষ দল খুব বেশি পেনাল্টি কর্নার না পায়।

যদি জাপান পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল পেয়ে যায়, তা হলে পাল্টা চাপ দিতে পারে ভারতীয় দলকে। আর সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ের ফল কী হয়েছিল, তার গুরুত্ব খুব একটা থাকে না।

মনসংযোগে সামান্য চিড় ধরলেই সেই সুযোগে বিপক্ষ কিন্তু এগিয়ে যেতে পারে। তাতে টানা দ্বিতীয় বার ভারতীয় দলের এশীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। শেষ বার এই প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তানকে যুগ্মবিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল বৃষ্টির জন্য ফাইনাল ভেস্তে যাওয়ায়। অপর সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার।

এশীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মঙ্গলবার: প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তান বনাম দক্ষিণ কোরিয়া, বিকেল ৩.০০ থেকে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত বনাম জাপান, বিকেল ৫.৩০ থেকে (স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২ চ্যানেলে)।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.