নেইমার ও মেসির সতীর্থ হচ্ছেন রোনালদো?

পিএসজির চেয়ারম্যান নাসের আল খেলাইফির স্বপ্নের কোনো সীমা নেই।

ফরাসি ক্লাবটি এখন চাঁদের হাট। রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ—তারকায় ভরপুর। কেইলর নাভাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাঝে জর্জিনিও ভাইনালডাম, সের্হিও রামোস, মার্কো ভেরাত্তি, আনহেল দি মারিয়া, নেইমারসহ আরও অনেকেই আছেন।পিএসজির এ চাঁদের হাটে সর্বশেষ সংযোজন লিওনেল মেসি।

তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, খেলাইফি সম্ভবত মেসিকে কিনেই থামছেন না। তাঁর বিশ্বাস, এমবাপ্পে হয়তো পিএসজিতে থাকবেন না। তাঁর জায়গায় দেখা যেতে পারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে! হ্যাঁ, মেসি, রোনালদো ও নেইমার—এমন স্বপ্নের আক্রমণভাগ দেখা যেতে পারে পিএসজিতে।

মেসি পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, এমবাপ্পে তাঁর সতীর্থ হিসেবে থাকবেন তো? পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়নে এখনো তেমন আগ্রহ দেখাননি ফরাসি তারকা। আগামী জুনে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরাবে। পিএসজি তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবায়নে আগ্রহী।

খেলাইফি এর আগে সোজাসাপ্টাই বলেছেন, নেইমার ও মেসিকে নিয়ে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল যেহেতু গড়া হয়েছে, তাই এমবাপ্পে ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার কোনো অজুহাত দেখাতে পারবেন না। এমবাপ্পের তরফ থেকে এখনো এ নিয়ে কোনো মন্তব্য মেলেনি।

এএস জানিয়েছে, এমবাপ্পে যদি শেষ পর্যন্ত থাকতে না চান, তাহলে তাঁকে বেচে দেবে পিএসজি। শুধু তা–ই নয়, আগামী মৌসুমে তাঁর শূন্যতা পূরণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে ক্লাবটি। জুভেন্টাস থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে পিএসজি। এমবাপ্পেকে বহু আগে থেকেই কিনতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ।

ফরাসি ফরোয়ার্ড যদি জুনে ফ্রি এজেন্ট হয়ে রিয়ালে শেষ পর্যন্ত যোগ দেন, আর জুভেন্টাসেও যেহেতু রোনালদো তেমন একটা ভালো নেই, তাঁর দলবদলের ইচ্ছার কথা ভাসছে ইউরোপিয়ান ফুটবলে—এভাবে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে অঙ্কটা কষেছে পিএসজি।

এমবাপ্পে আগামী মৌসুম শেষে রিয়ালে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যোগ দেবেন, এটাই মনে করছে স্প্যানিশ এই সংবাদমাধ্যম। পিএসজিও নাকি এ বিষয়ে একমত। এদিকে আগামী ৩০ জুন রোনালদোও ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন জুভেন্টাসে।

তখন এমবাপ্পের জায়গায় রোনালদোকে এনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে (মেসি-রোনালদো) ক্লাব সতীর্থ বানাতে চায় পিএসজি। দলবদল নিয়েও কোনো পাইপয়সা খরচ হবে না ক্লাবটির। শুধু এক তারকার জায়গায় আসবেন আরেক তারকা।

এএস জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তিন ফুটবলারকে একত্র করার ইচ্ছাটা বহু আগে থেকেই লালন করছেন খেলাইফি। ২০১৭ সালে নেইমার-এমবাপ্পে একসঙ্গেই এসেছিলেন। এবার এলেন মেসি। বাকি রয়েছেন শুধু রোনালদো।

রোনালদোর এজেন্ট হোর্হে মেন্দেস নাকি এই সবকিছুই জানেন। ৩৭ বছর বয়সে প্যারিসে এসে রোনালদো নাকি সর্বোচ্চ দুই বছরের চুক্তি করতে পারেন। অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদ শেষে রোনালদোর বয়স হবে ৩৯ বছর। তখন চাইলে অবসর কিংবা যুক্তরাস্ট্র-কাতারের কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলে নাম লেখাতে পারবেন পর্তুগিজ তারকা।

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে রিয়ালে যে ‘নক্ষত্রপুঞ্জ’ গড়েছিলেন, পিএসজি সম্ভবত সে পথেই অগ্রসর হচ্ছে—জানিয়েছে এএস।

সংবাদমাধ্যমটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এমবাপ্পের প্রতি খেলাইফি যে বলেছেন ‘কোনো অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই’, সেটি আসলে তাঁকে যতটা ধরে রাখার ইচ্ছা, তাঁর চেয়েও সবকিছু পরিষ্কার করে দেওয়ার ইঙ্গিত।

মেসি আসার পর পিএসজির সমর্থকদের সিংহভাগ নাকি আর্জেন্টাইন তারকার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তাতে এমবাপ্পের জনপ্রিয়তা কমাই স্বাভাবিক। ফরাসি তারকা কিন্তু এখনো মেসিকে পিএসজিতে স্বাগত জানিয়ে কিছু বলেননি। কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়!

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.