নামাজরত সময় যদি আপনি রাকায়াত সংখ্যা ভুলে যান কী করবেন : জেনে নিন

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন।

কিন্তু অনেকেই আছেন যারা নামাজে অধিক মনোযোগ দেয়ার জন্য অনেক সময় রাকায়াত সংখ্যা মনে থাকে না। নামাজরত অবস্থায় যদি রাকায়াত সংখ্যা ভুলে যান তাহলে আপনি কী করবেন?

প্রথম রাকাত পড়লাম নাকি দ্বিতীয় রাকাত? মনের মধ্যে যদি এমন প্রশ্ন উদিত হয়, তাহলে মন যে দিকে ঝুঁকবে বা সায় দিবে তাই গ্রহণ করতে হবে।

আর যদি কোনো দিকেই মন না ঝুঁকে তাহলে কম তথা এক রাকাত ধরতে হবে। তবে এই প্রথম রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই দ্বিতীয় রাকাত। দ্বিতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে।

তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে এটি চতুর্থ রাকাত। তারপর চতুর্থ রাকাতে সাজদায়ে সাহু করে নিবে। যদি সন্দেহ হয় যে, দ্বিতীয় রাকায়াত পড়লাম, নাকি তৃতীয় রাকাত? তাহলে তার হুকুমও এরূপ।

যদি মন কোনো দিকে না ঝুকে তাহলে দ্বিতীয় রাকাত ধরে নিবে এবং এই রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে এবং এটা বিতর নামাজ হলে এ রাকাতেও দুয়ায়ে কুনুত পড়বে।

তৃতীয় রাকাতেও বসবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে। যদি সন্দেহ হয় যে, তৃতীয় রাকাত পড়লাম, নাকি চতুর্থ রাকাত? তাহলে তার হুকুম অনুরূপ।

কোনো দিক মন না ঝুঁকলে তিন রাকাত ধরে নিবে। কিন্তু এই তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহুদ পড়তে হবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।

যদি নামাজ শেষ করার পর সন্দেহ হয় যে, এক রাকাত কম রয়ে গেলে কিনা? তাহলে এই সন্দেহের কোনো মূল্য নেই। নামাজ হয়ে গেছে। অবশ্য যদি সঠিকভাবে স্মরণ আসে যে, এক রাকাত কম রয়ে গেছে,

তাহলে দাঁড়িয়ে আরও এক রাকাত পড়ে নিবে এবং সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।

কিন্তু যদি ইতোমধ্যে এমন কোনো কাজ করে থাকে যাতে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায় (যেমন কেবলা থেকে ঘুরে বসে থাকা বা কথা বলে থাকা) তাহলে নতুন নিয়ত বেঁধে সম্পূর্ণ নামাজ পুনরায় পড়তে হবে।

আর প্রথম অবস্থায়ও নতুনভাবে নামাজ পুনরায় পড়ে নেয়া উত্তম; জরুরি নয়। শেষ কথা, উপরোক্ত কোন ব্যাখ্যা যদি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হয়, তাহলে আপনি নামাজ ভেঙে পুনরায় নিয়্যত করে নামাজ আদায় করবেন।

নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার কিছু টিপস

আপনি যেই ব্যবসা, চাকরী বা কাজই করুন না কেন, আল্লাহ একটি সয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া আমদের মাঝে চালু রেখেছেন, একটি স্বর্গীয় প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে কোন ব্যক্তি মরুভুমিতে থাকুক, কিংবা নিউইয়র্কে থাকুক, বা কোন বনের মাঝে থাকুক, যেখানেই থাকুক না কেন সে সবসময় আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকবে। কিসের মাধ্যমে? সালাত বা নামাজের মাধ্যমে। আপনি নামাজ পড়েই এটা ভাবতে পারেন না যে আল্লাহর সাথে আপনার যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে গেল।

আপনার নামাজের মাঝে একটি বিশেষ গোপন উপাদান থাকতে হবে, যা আপনাকে আল্লাহর সাথে যুক্ত রাখবে। যদি সেই জিনিস অনুপস্থিত থাকে তাহলে আপনার নামাজ হয়ে পড়বে অন্তঃসারশূন্য একটি ব্যাপার। হ্যাঁ, আপনি অন্তত নামাজের জন্য হয়তো দাঁড়াচ্ছেন কিন্তু সেখানে একটা ফাঁক রয়ে যাচ্ছে। এখন সেই গোপন জিনিসটি কি? আল্লাহ বলছেন قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ ”মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে”, ’الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ ‘ এখানে গোপন জিনিসটি হলো خَاشِعُونَ সত্যিকারের মু’মিনরাই সফল হয়েছে, যাদের সালাতে রয়েছে খুশু। বিনম্রতা, আনুগত্য, অখন্ড মনোযোগ, এই সবকিছুই হচ্ছে খুশু।

প্রকৃত অর্থে যেটা আমাদেরকে করতে বলা হয়েছে তা হল, যেই মাত্র আমি বলবো আল্লাহু আকবার, আমরা অন্য আরেকটি জগতে চলে যাব, এই দুনিয়া তখন আপনার কাছে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে, আপনার সন্তানের কথা মনে থাকবে না, স্ত্রীর কথা মনে থাকবে না, আপনার কাজের কথা মনে থাকবে না, কোন কিছুরি অস্তিত্ব থাকবে না, শুধু মাত্র আপনি এবং আল্লাহ, ব্যাস। যখন আমরা নামাজে দাঁড়াবো তখন আমাদেরকে এই রকম মনোজগতে প্রবেশ করতে হবে।

তাই সাধারণভাবে বলা হয় যে নামাজের জন্য একটি নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়াতে। আর আমার ব্যক্তিগত উপদেশ হচ্ছে নামাজ শুরু করার আগে সেই জায়গায় আগে চুপচাপ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকুন এবং মনের সব চিন্তাভাবনা আগে সরিয়ে ফেলুন, মাথা থেকে সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন, এবং নিজেকে শুধুমাত্র সালাতের সাথে যুক্ত করুন।

এবং যখন নামাজ পড়বেন, জানুন যে কি পড়ছেন, যদি আরবী নাও জানেন, তাহলেও কিছু শব্দ ভান্ডার গড়ুন, বিভিন্ন লেকচার শুনুন, তাফসীর পড়ুন, অন্তত যেই আয়াতগুলো আপনার মুখস্ত সেগুলোর। যাতে সেই আয়াতগুলোর সাথে আপনার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে।

কারণ সালাহ মানেই হচ্ছে আল্লাহ এবং আপনার মাঝের কথোপকথন। আপনার নামাজ যদি ঠিক থাকে তাহলে আপনি আল্লাহর সাথে কানেক্টেড আছেন, আর যদি আপনার নামাজ দূর্বল থাকে,তাহলে আল্লাহর সাথে যোগাযোগও দুর্বল এমনকি যদি আপনি মসজিদেও থাকেন। অর্থাৎ মসজিদে থেকেও আপনার আল্লাহর সাথে কোন সম্পর্কই নাও থাকতে পারে, যদি আপনি নামাজে মনোযোগ না দেন। তাই এই প্রশ্নে আমার জবাব হচ্ছে সমস্যা আপনার কাজ নয়, সমস্যা হচ্ছে আপনার মনোযোগে। আল্লাহ ভাল জানেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.