ডেঙ্গু নাকি করোনা বুঝবেন কীভাবে?

গরমের অস্বস্তি থেকে বাঁচতে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা থাকে আমাদের। বর্ষায় স্বস্তি মিললেও থাকে নানা রোগের ভয়। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি, জ্বর দেখা দেয়। সেইসঙ্গে এই সময়ে বাড়ে মশার উপদ্রবও। এর ফলে মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় এসময়। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ এই মৌসুমে বাড়তে থাকে।

বর্তমানে করোনা মহামারি মোকাবিলা করছি আমরা। যে কারণে জ্বর হলেও করোনা নাকি ডেঙ্গু তা সঠিকভাবে বোঝা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এর নির্ণয় এবং চিকিৎসায়ও চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু ও করোনার কো-ইনফেকশনের ঘটনাও ঘটছে।

ন্যাশনাল সেন্টার অফ বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশানে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা ও ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা গেছে। আবার এই দুই রোগের স্যাম্পল পরীক্ষার পরেও উঠে এসেছে একই ফলাফল। এটি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। যে কারণে রোগ নির্ণয় করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিবছর বর্ষার সময় ম্যালেরিয়া, লেপ্টোস্পাইরোসিস, জন্ডিসের মতো রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এই রোগগুলোর লক্ষণ প্রায় একইরকম। যেমন ডায়রিয়া, বমি, মাথা ব্যথা, জ্বর, গাঁটে ব্যথা। তবে গলা ব্যথা, কাশি, স্বাদ ও গন্ধ হারিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো করোনা নির্ণয়ে সাহায্য করে। কো- ইনফেকশন প্রতিরোধে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে রোগী শনাক্ত করা সহজ হবে। ফলে চিকিৎসা দেওয়াও সহজ হবে। এতে ভুল চিকিৎসার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকিও কমবে।

আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে রোগ দেখা দিলে প্রতিটি রোগের লক্ষণ ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে। যেমন- হঠাৎ করেই বেশি জ্বর, বমি, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, গা গোলানো, র‌্যাশ ইত্যাদি ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ। চোখের ভেতর ব্যথা, ঠান্ডা লাগা, অ্যাকিউট জয়েন্ট পেইনের মতো সমস্যা চিকনগুনিয়ার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। লেপ্টোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত হলে দেখা দিতে পারে জন্ডিস, কিডনির সমস্যা, চোখ লাল হয়ে যাওয়ার সমস্যা।

এই সময়ে সচেতন থাকার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ

* যদি দুই থেকে তিন দিনের ভেতরেও জ্বর না কমে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

* মাথাব্যথা, র‌্যাশ, ঠান্ডা লাগা, মাইলেজিয়ার মতো লক্ষণ থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার কারণে দেখা দিতে পারে এই লক্ষণগুলো। বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশুদের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

* এসময় যদি পাতলা পায়খান, বমি, জ্বর ও চোখ হলুদ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখতে পান তবে তা হতে পারে অ্যাকিউট গ্যাস্ট্রোএন্ট্রাইটিস, জন্ডিসের লক্ষণ।

* অনেকে নিজেই নিজের চিকিৎসা করে থাকেন। অর্থাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে বা অন্য কারও পরামর্শ শুনে সেই অনুযায়ী ওষুধ খান। এটি একেবারেই ভুল পদ্ধতি। প্রথমে রোগ নির্ণয় এবং এরপর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই ওষুধ খেতে হবে। নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.