ইনজামামের প্রশ্ন আইসিসি কী করছে! বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা কি ঘুমিয়ে আছে !

নিউজিল্যান্ডের দল দেখেই ইনজামাম-উল-হক ক্ষুব্ধ। দলটি পাকিস্তান খেলতে আসবে কেইন উইলিয়ামসনসহ শীর্ষ সাত তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই। বিশ্রাম-টিশ্রাম দিলে না হয় একটা কথা ছিল, এই সাত ক্রিকেটার সে সময় খেলবেন আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলো!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে পাশ কাটিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সংস্কৃতির ঘোরবিরোধী ইনজামাম। প্রায়ই তিনি ব্যাপারটি নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। পাকিস্তান সফরের নিউজিল্যান্ড দল দেখে তিনি মহাখাপ্পা। এটা কীভাবে সম্ভব! বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ড এটাকে সমর্থন দিচ্ছে—জাতীয় দলের খেলা বাদ দিয়ে পয়সা রোজগারের ক্রিকেট খেলা। আইসিসি কী করছে! বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা কি ঘুমিয়ে আছে?

কয়েক দিন আগেই ৩২ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াড তারা আগেই দিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে দুটি সফর আছে নিউজিল্যান্ড দলের। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। কিন্তু বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সফরে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের কেউ নেই। আগামী কয়েক মাসের আঁটসাঁট ক্রিকেট ক্যালেন্ডার, করোনাকাল—সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের মানসিক স্বাস্থ্যের দেখভাল করতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত। ইনজামামের প্রশ্ন, তাহলে কেইন উইলিয়ামসনসহ সাত শীর্ষ ক্রিকেটার কেন আইপিএল খেলতে যাবেন? এক মাস ধরে জৈব সুরক্ষাবলয়ে থেকে আইপিএল খেললে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা হয় না?

ইনজামাম এ ব্যাপারে আইসিসিরই দায়ভার দেখেন, ‘আইসিসি আসলে কী করছে? এসব কর্মকাণ্ড দিয়ে আসলে কোন ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে পাত্তা না দিয়ে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা আইপিএল বা এ ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই গুরুত্বহীন করা হচ্ছে।’

সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজে পূর্ণশক্তির প্রতিপক্ষ পায়নি পাকিস্তান। এটা পোড়াচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তিকে, ‘আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, এ ব্যাপার পাকিস্তানের ক্ষেত্রেই বেশি হচ্ছে। পাকিস্তান কেন যেন প্রতিপক্ষের সেরা দলটির বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। এপ্রিলে পাকিস্তান দল দক্ষিণ আফ্রিকা গেল, তখনো প্রোটিয়াদের মূল দলের সঙ্গে খেলতে পারেনি। সে সময় দক্ষিণ আফ্রিকার মূল খেলোয়াড়েরা আইপিএলে ব্যস্ত ছিল। এভাবে চলতে থাকলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান দলের সঠিক প্রস্তুতি কীভাবে হবে!’

বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, পাকিস্তানে ওয়ানডে সিরিজ আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট যে ৩২ সদস্যের দল দিয়েছে; তাতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আইপিএল খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে কিছু তারকা ক্রিকেটারকে। এই ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তান সফরে আসছেন না। তবে প্রায় সবাই আছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে।

কেইন উইলিয়ামসন, মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি, টড অ্যাস্টল, জিমি নিশাম, ড্যারিল মিচেল, ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, লকি ফার্গুসন, কাইল জেমিসন, টিম সাইফার্ট, মার্টিন গাপটিল, ডেভন কনওয়েদের মতো ক্রিকেটার না থাকায় জাতীয় দলের নামে মোটামুটি ‘এ’ দল নিয়েই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে আসছে নিউজিল্যান্ড। দুই সফরে নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেবেন টম ল্যাথাম। মজার ব্যাপার, নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে ল্যাথাম নেই।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.