আদালতের বাইরেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলেন পরিমনি।

রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ফের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতের শুনানি শেষে দ্রুত হাজতখানায় নেওয়ার সময় হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২ টার কিছু আগে পরীমনিকে আদালতের এজলাস থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

এদিন সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে পরীমনিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আদালত আনা হয়। তখন তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলার পর তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। এসময় আসামি পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

আদেশের পর সিএমএম আদালতের আটতলা ভবন থেকে পরীমনিকে বের করা হয়। আদালত ভবনের নীচে হাজতখানার সামনে শতশত মানুষ, সাংবাদিক পরীমনির জন্য অপেক্ষায় ভিড় করেন। এর ফলে হাঁটার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। এর মধ্যেই পরীমনিকে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে হাজতখানায় নেয়ার জন্য রওনা দেয়। এসময় হুড়োহুড়িতে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পরীমনি। এতে হাতে-পায়ে ব্যথা পান তিনি। পরে নারী পুলিশরা তাকে তুলে হাজতখানায় প্রবেশ করান।

এ বিষয়ে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘হুড়োহুড়িতে পড়ে যান পরীমনি। তাকে তুলে হাজতখানায় রাখা হয়েছে। তবে কোনো চোট পাননি তিনি।’

এর আগে, গত ১৬ আগস্ট পরীমনিকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানে নতুন মাদক এলএসডি, মদ ও আইস উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে তার বাসা থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন গত ৫ আগস্ট র‍্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী বিপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় দায়ের করে।

মামলার পর রাত ৮ টা ২৪ মিনিটে পরীমনি ও তার সহযোগীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বনানী থানার মামলার তাদের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একইদিন ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। এরপর সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় গত ১০ আগস্ট পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুর দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে পরীমনি ও তার সহযোগী দিপুকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা। এসময় আসামি পক্ষে তাদের আইনজীবী মজিবুর রহমান জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.