অশ্বিনকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেন শাস্ত্রী! বোমা ফাটিয়ে স্বীকার করলেন এই ক্রিকেটার

গত দু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণ করেছেন। সেই সঙ্গে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও নিজের হারানো জায়গা ফিরে পেয়েছেন তারকা।

চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন অশ্বিন। নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজের সেরা হয়েছেন। ইংল্যান্ড সিরিজে চারটে টেস্ট না খেললেও বছরের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারি হতে চলেছেন তিনি।

তবে কয়েক বছর আগেও অশ্বিনের জন্য পরিস্থিতি এতটা সহজ ছিল না। ২০১৭/১৮-য় সীমিত ওভারের সিরিজে নিজের জায়গা খুঁইয়েছিলেন তিনি। ২০১৮-য় অজি সফরের পরে হেড কোচ রবি শাস্ত্রী প্রকাশ্যেই কুলদীপ যাদবকে বিদেশে ভারতীয়দের মধ্যে সেরা স্পিনারের আখ্যা দিয়ে দিয়েছিলেন।

সেই সফরে এডিলেডে দলকে জিতিয়ে ফিটনেসের কারণে তিনটে ম্যাচে খেলতে পারেননি অশ্বিন। অশ্বিনের বদলে কুলদীপকে খেলান কোহলি এন্ড কোং। সেই সুযোগ দু হাতে বাড়িয়ে সদ্ব্যবহার করেন তারকা। সিডনিতে পাঁচ উইকেট নেন তিনি।

রবি শাস্ত্রীর সেই বক্তব্যে চরম আহত হন তারকা স্পিনার। ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। অশ্বিনের মনে হয়েছিল, তাঁকে চলন্ত বাসের সামনে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে অশ্বিন জানিয়েছেন, “রবি (শাস্ত্রী) ভাইকে বরাবর উঁচু নজরে দেখি। দলের প্রত্যেকেই করে। আমরা অনেকেই কিছু মন্তব্য করে পরে তা প্রত্যাহার করে নিই। তবে সেই সময় নিজেকে চূর্ণ বিচূর্ণ মনে হয়েছিল। আমরা সবসময় সতীর্থদের সাফল্যে আনন্দিত হই।”

“কুলদীপের জন্য আমিও খুশি ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ায় আমারও ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেই। সেই কীর্তিই গড়েছিল কুলদীপ। এটা কত বড় ব্যাপার, সেটা ভালোই জানি। খুব ভাল বল করেও অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ উইকেট পাইনি। তাই ওঁর জন্য খুব ভাল লাগছিল। ভীষণ আনন্দিত হয়েছিলাম।”

“তবে আমি যদি দলের সঙ্গে একাত্ম হতে পারি, তাহলেই সতীর্থদের সাফল্যে সত্যিকারের আনন্দ পাব। সেই সময় আমার মনে হয়েছিল, আমাকে চলন্ত বাসের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থায় কীভাবে উঠে দাঁড়িয়ে সতীর্থের সাফল্যে উৎফুল্ল হব? সেই সময় নিজের রুমে গিয়ে নিজের স্ত্রী-র সঙ্গে কথা বলি। আমার বাচ্চারাও সেখানে ছিল। সেই মনের কষ্ট ঝেড়ে ফেলে আমাদের সেই সেলিব্রেশনের পার্টিতে যেতে হয়। যতই হোক, দল ইতিহাস গড়ে জিতেছিল।”

ঘটনাচক্রে, সেই টেস্টের পরে কুলদীপ যাদব জাতীয় দলের হয়ে মাত্র একটা টেস্ট খেলেন। সেটাও আবার তিন বছর আগের। গত বছরের অস্ট্রেলীয় সফরে কুলদীপকে স্কোয়াডে রাখা হলেও একটি ম্যাচে খেলেননি। সিরিজের তিনটে টেস্ট টানা খেলে ইনজুরির কারণে গাব্বায় শেষমেশ খেলতে পারেননি অশ্বিন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.